দেশে এলপিজির সংকট নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)। প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ করেছে যে, পাঁচটি কোম্পানি আমদানি করা এলপিজির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বাজারে না ছেড়ে মজুত করে রেখেছে। এই কোম্পানিগুলো হলো আইগ্যাস, ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, বিএম এনার্জি এবং যমুনা।
এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে এলপিজির আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কেট প্রিমিয়াম বেড়েছে প্রায় ৬৪ ডলার প্রতি টন। প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্য হতে পারে এলপিজি মজুত করে পরে বেশি দামে বিক্রি করা। তবে, এই অভিযোগের সত্যতা এখনও যাচাই করা হয়নি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা আগস্টের ১ লাখ ৫৭ হাজার টনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। কিন্তু বাজারে সিলিন্ডার উপলব্ধ না থাকার কারণে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বর্তমান বাজারে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৬০০ টকায় বিক্রি হচ্ছে।
এলপিজি সংকটের কারণে শুধু বাড়ির রান্নাঘর নয়, অটোগ্যাস ব্যবহারকারী গাড়ির চালকরাও সমস্যায় পড়েছেন। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অনেক ফিলিং স্টেশনে অটোগ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
এনএসআই ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বড় আমদানিকারকদের কাছে থাকা এলপিজির মজুত জরুরি ভিত্তিতে যাচাই করার সুপারিশ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ওমেরা দাবি করেছে, তারা সবসময় এলপিজির সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
এখন প্রশ্ন উঠছে, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হয়েছে, তাহলে বাজারে সংকট কেন? তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করা হবে।