যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে দুই শতাব্দীর বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কোনো নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে যাচ্ছে। ৩০ বছর আগে সহপাঠীকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
৫০ বছর বয়সী পাইকের মৃত্যুদণ্ড টেনেসির রাজধানী ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে কার্যকর হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শেষ মুহূর্তে মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাইকের আইনজীবীরা তার শৈশবের নির্যাতন, অবহেলা ও যৌন নিপীড়নের ইতিহাস তুলে ধরে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন করেছিলেন, যা টেনেসির গভর্নর বিল লি প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে, পাইক তার প্রেমিক ও আরেক সহযোগীকে নিয়ে ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কোলিন স্লেমারকে হত্যা করেন। হত্যাকাণ্ডটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয় এবং তদন্তে উঠে আসে যে, হত্যার পর ভুক্তভোগীর বুকে পেন্টাগ্রামের আকৃতি খোদাই করা হয়েছিল।
পাইক ও তার প্রেমিক হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং ১৯৯৬ সালে তাদের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ আনা হয়। পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও তার প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পাইক বর্তমানে টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় একমাত্র নারী। তার আইনজীবীরা গভর্নরের কাছে ২২৬ পৃষ্ঠার ক্ষমার আবেদন জমা দেন, যেখানে শৈশবে সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
পাইক বর্তমানে ৫০ বছর বয়সী একজন অনুতপ্ত নারী হিসেবে পরিচিত, যিনি মানসিক চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং কারাগারে অন্য নারী বন্দীদের সহযোগিতা করছেন। তবে নিহত কোলিন স্লেমারের মা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নারী বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বিরল। ১৯৭৬ সালের পর থেকে দেশটিতে ১ হাজার ৬শ' ৮৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ১৮ জন নারী।
পাইকের মামলাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা তার মৃত্যুদণ্ড কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।