যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। গত বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ক্রিস্টা পাইক, যিনি ১৯৯৬ সালে ১৮ বছর বয়সে একটি খুনের জন্য মৃত্যুদণ্ড পান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া সত্ত্বেও বেঁচে যান। তার আইনজীবীরা আদালতে জানান, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার পরও ক্রিস্টা পাইককে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রথমবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তবে, এই ঘটনার পর ক্রিস্টার আইনজীবীরা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধের জন্য আদালতে আবেদন করেন, কারণ তিনি যে পরিমাণ যন্ত্রণা সহ্য করেছেন তা অগ্রহণযোগ্য।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির উপ-পরিচালক জাস্টিন ম্যাজোলা বলেন, 'ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চরম নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত।' তিনি আরো বলেন, 'রাষ্ট্রের পক্ষে কাউকে হত্যা করার কোনো মানবিক উপায় নেই।'
ক্রিস্টার শৈশবের গুরুতর যৌন নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি তার বিচার চলাকালীন যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা মানবাধিকারের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন ম্যাজোলা।