বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ও রাশিয়ার সংকট দায়ী।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্লেষকরা এর জন্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করছেন। তারা ধারণা করছেন, এই সংকট ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জ্বালানি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে ডিজেল সরবরাহও কমে গেছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার পর জুলাইয়ে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মস্কো। বিশ্ববাজারের অন্যতম বড় ডিজেল রপ্তানিকারক রাশিয়া আগে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ করত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ কমেছে এবং দাম বেড়েছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ফিলিপ ভারলেগার বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং কৃষকদের ডিজেল পাম্পের ব্যবহার কমানোর কথা ভাবতে হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা আশা করছেন, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো পুনরায় চালু হলে এবং হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক হলে সংকট কিছুটা কমবে। তবে ফিলিপ ভারলেগার সতর্ক করেন যে, সবকিছু ঠিক থাকলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আরও ৬ মাস লাগতে পারে।

এদিকে, অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা ভাবছে। এতে ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোকে সীমিত সরবরাহের জন্য আরও বেশি প্রতিযোগিতা করতে হবে।

বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তার কারণে ডিজেলের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে চীনের মতো দেশগুলো এই সংকটকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে, যেহেতু তারা বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবস্থা হওয়ায় অতিরিক্ত জ্বালানি সক্ষমতা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন