যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওকে (এনপিআর) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলদেমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে সক্ষম হবে না।
জেলেনস্কি জানান, এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলার মতো যথেষ্ট পরিমাণ ডিজেল আসবে না। তিনি বলেন, 'আমি নিশ্চিত, এর পরিমাণ যথেষ্ট নয়।'
এদিকে, তিনি মন্তব্য করেন যে, এই ব্যবস্থা থেকে রাশিয়া যুদ্ধের পেছনে ব্যয় করার জন্য বিপুল অর্থ পাবে। ট্রাম্পের রোববারের ঘোষণার পর থেকে ইউক্রেন রাশিয়ার কোনো তেল শোধনাগারে হামলা চালায়নি বলেও জানান জেলেনস্কি।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে, তবে সামরিক কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে যে, এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য এখনও কিয়েভ পাচ্ছে। তিনি জানান, আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ার বিষয়টি রাশিয়ার ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরনের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রাশিয়ার ডিজেল রফতানি স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ পরিস্থিতি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।
জেলেনস্কি বলেন, 'সবাই বিষয়টি বোঝে।' সোমবার ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায় রাশিয়া।
ক্রেমলিনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জ্বালানি খাতের যুদ্ধবিরতি সম্পর্কে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি।
জেলেনস্কি জানান, সংঘাত নিরসনের উপায় নিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন বৈঠকের লক্ষ্যে প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইউক্রেন। সম্ভাব্য বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নেবেন।
তিনি বলেন, রাশিয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চললে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণাকে সমর্থন করে ইউক্রেন। জেলেনস্কি আরও জানান, 'আমাদের শান্তির জন্য কাজ করতে হবে, যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার উপায় খুঁজতে হবে।'