রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে। সিকিউরিটি গার্ডদের জিম্মি করে লুট করা হয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও নগদ টাকা। পরে ভারী যন্ত্র দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন।
এই ঘটনার পরপরই সরকার কঠোর অবস্থান নেয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
রাড্ডা সেন্টারের হামলার ঘটনায় মিষ্টির নাম উঠে আসলেও তিনি নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন। তবে সরকারের গোপন তদন্তে তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম প্রকাশ পায়। এই ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিএনপির ১৪ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
হামলার পর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। সরকারি উদ্যোগে পুনর্নির্মাণ কাজ চলছে। ইতোমধ্যেই নতুন গাঁথুনি দেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ১৯৭৪ সাল থেকে সেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাড্ডার ঘটনায় সরকারের কঠোর অবস্থান এবং এমপি মিষ্টির পদত্যাগ বিষয়টি রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করছে। সরকার জানিয়ে দিয়েছে, দখলদারির বিরুদ্ধে এবং জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তারা অঙ্গীকারবদ্ধ।