শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের নতুন চালান

তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান, চীনের সামরিক চাপ মোকাবেলায় তাইপের প্রস্তুতি।

তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমানের নতুন চালান

চীনের সামরিক চাপের মুখে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে যাচ্ছে তাইওয়ান। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্ডার করা ৬৬টি অত্যাধুনিক ‘এফ-১৬ভি’ (F-16V) যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান হিসেবে আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুটি বিমান তাইওয়ানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সফটওয়্যার জটিলতার কারণে বিলম্বের পর এই যুদ্ধবিমান দুটি হাতে পেতে যাচ্ছে তাইপে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে এবং তাইওয়ানের চারপাশে চীনের যুদ্ধবিমান ও নৌবহরের নিয়মিত টহলের কারণে দেশটি সর্বদা সতর্ক অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক মিত্র এবং অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ।

নতুন যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানের পার্বত্য পূর্ব উপকূলের তাইতুং বিমানঘাঁটিতে অবতরণের কথা রয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটছে এমন সময়ে যখন ওয়াশিংটনের অস্ত্র সরবরাহ প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাইপের মধ্যে কিছু রাজনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু সাংবাদিকদের জানান, শিগগিরই আরও নতুন এফ-১৬ভি বিমান যুক্ত হবে। তিনি বলেন, ‘বছরের শেষ নাগাদ সরবরাহ কেবল এই দুটি যুদ্ধবিমানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

২০১৯ সালে তাইওয়ানের কাছে ৬৬টি এফ-১৬ভি বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। পুরো চালান হস্তান্তর হলে তাইওয়ানের হাতে এফ-১৬ সিরিজের বিমানের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৩ সালে নিজেদের পুরনো এফ-১৬ বিমানের আধুনিকায়ন সফলভাবে শেষ করেছে তাইপে।

এই সরবরাহ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত মে মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক এবং সেপ্টেম্বরে হোয়াইট হাউসে হওয়া বৈঠকের সপ্তাহখানেকের মধ্যেই যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানে পৌঁছাচ্ছে।

উন্নত এভিওনিকস, শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার ও দূরপাল্লার রাডার সমৃদ্ধ এফ-১৬ভি চীনের স্টেলথ প্রযুক্তির ‘জে-২০’ ফাইটারের মোকাবেলায় তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ভারসাম্য আনবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি ও অভিন্ন মূল্যবোধ বজায় রাখতে তাইওয়ানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের পাশে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন