গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি নবায়ন না করা হলে, নতুন চুক্তির আলোচনা সময় অপচয়ের সমান হবে বলে সতর্ক করেছেন নদী গবেষকরা। তারা বলেন, এতে পদ্মা নদীর ভবিষ্যৎ তিস্তার মতো হতে পারে।
গবেষকরা বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ পর্যায়ে দ্রুত আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। গঙ্গা নদী হিমালয়ের গাঙ্গেয়ত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পদ্মা হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে।
শীতকালে গঙ্গার প্রবাহ কমে যায়, কারণ ভারত উজানে ২৯টি বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। এর ফলে, শুকনো মৌসুমে বাংলাদেশে পদ্মার জলহীন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে শুকনো মৌসুমে ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ৩০ বছর মেয়াদী চুক্তি হয়, যা ১১ মার্চ থেকে ১০ মে পর্যন্ত পানি বন্টনের নিশ্চয়তা দেয়।
নদী গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, ‘১৯৭৭ সালের চুক্তিটি শক্তিশালী ছিল, কিন্তু ১৯৯৬ সালেরটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী।’
গবেষক শেখ রোকন জানান, ‘চুক্তির ৮ ও ৯ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, দুই দেশ মিলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি করবে, যা অদ্ভুত।’ চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে, এবং নতুন শর্তে পানিবন্টন চুক্তি করতে সরকার আগ্রহী।
গবেষকরা নতুন চুক্তির বিপক্ষে সতর্কতা জারি করেছেন। শেখ রোকন বলেন, ‘নতুন চুক্তি একটি ফাঁদ। এটি বিভ্রান্তি ও বিপজ্জনক হতে পারে।’
ফিদা এ খান আরও বলেন, ‘চুক্তিটি মাসখানেকের মধ্যে হতে পারে। যদি ভারতের স্বদিচ্ছা থাকে, তবে জানুয়ারির মধ্যেও এটি সম্পন্ন হতে পারে।’
গবেষকরা নেপালকে সঙ্গে নিয়ে ভারতের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন।