বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি দ্রুত নবায়নের আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

গঙ্গা চুক্তি নবায়নের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানিবন্টন চুক্তি দ্রুত নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, চুক্তি নবায়ন না করলে পদ্মা নদীর পরিণতি তিস্তার মতো হতে পারে।

গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়ে আড়াই হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়। শীতকালে গঙ্গার অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, কারণ ভারত উজানে ২৯টি বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। এর ফলে বাংলাদেশের অংশে পানির প্রবাহ কমে যায়, বিশেষ করে শুকনো মৌসুমে।

বাংলাদেশ-ভারত গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি ১৯৭৭ সালে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে শুকনো মৌসুমে ৩৪ হাজার ৫০০ কিউসেক পানি পাওয়ার নিশ্চয়তা ছিল। ১৯৯৬ সালে দ্বিতীয় দফায় ৩০ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন করা হয়।

নদী ও জলবায়ু গবেষক মালিক ফিদা এ খান বলেন, "১৯৭৭ সালের গ্যারান্টি ক্লজটি শক্তিশালী ছিল, কিন্তু ১৯৯৬ সালেরটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল।" নদী গবেষক শেখ রোকন জানান, "চুক্তির ৮ ও ৯ নম্বর ধারায় উভয় দেশের যৌথ উদ্যোগে গঙ্গার পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করার কথা বলা হয়েছে।"

বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ১২ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। গবেষকরা জানান, নতুন শর্তে পানিবন্টন চুক্তি করতে গেলে পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিতে হবে। শেখ রোকন বলেন, "নতুন চুক্তি করা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি বিপদজনক হতে পারে।"

এদিকে, মালিক ফিদা এ খান আশা প্রকাশ করেন যে, যদি ভারতের সদিচ্ছা থাকে, তাহলে চুক্তিটি মাসখানেকের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে। গবেষকরা ত্রিপাক্ষিকভাবে গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তির প্রস্তাবও করেছেন, যাতে নেপালকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিজ্ঞাপন