বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নিলয় দাশ: বাংলাদেশের গিটার কিংবদন্তির স্মরণ

নিলয় দাশ: বাংলাদেশের গিটার কিংবদন্তি, যার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হচ্ছে।

নিলয় দাশ: বাংলাদেশের গিটার কিংবদন্তির স্মরণ

নিলয় দাশকে বাংলাদেশের 'গিটারিস্টদের গিটারিস্ট' হিসেবে পরিচিত। দেশের বহু গিটারিস্ট তার কাছ থেকে গিটারের পাঠ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন 'বেজবাবা' সুমন, ওয়ারফেজের কমল-রোমেল আলী, আর্কের পঞ্চম, বাপ্পা মজুমদার এবং পার্থ বড়ুয়া।

২০০৬ সালে মৃত্যুর পর দুই দশক পার হলেও, আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছে নিলয় দাশের নাম অপরিচিত। তার নিভৃতচারিতা এবং শ্রোতাদের সচেতন বিস্মরণই এর কারণ হতে পারে। ৩০ সেপ্টেম্বর, নিলয় দাশের জন্মদিনে, তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানো হচ্ছে।

বাংলাদেশের ব্যান্ড ইতিহাসের কিংবদন্তি গিটারিস্ট হিসেবে নিলয় দাশের অবদান অপরিসীম। তিনি গিটার বাজানোর পাশাপাশি গানও গাইতেন এবং গিটার শেখার প্রতি আগ্রহী অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা ছিলেন।

আইয়ুব বাচ্চু নিলয় দাশকে বাংলাদেশের কার্লোস সান্তানা বলতেন। নিলয় বাংলাদেশে প্রথম ইন্সট্রুমেন্টাল কনসার্ট করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। তার ব্যান্ড 'ট্রিলজি' ছিল জনপ্রিয়। ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত 'কত যে খুঁজেছি তোমায়' অ্যালবামটি তার প্রথম একক অ্যালবাম।

নিলয় দাশের গানগুলো শ্রোতাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। 'যখনই নিবিড় করে' তার সবচেয়ে বিখ্যাত গান, যা বর্তমান প্রজন্ম এলিটা করিমের গান হিসেবে জানে।

নিলয়ের বন্ধু হ্যাপি আখান্দের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। হ্যাপির স্মৃতিতে নিলয় দাশের গানগুলো এখনো মানুষের মনে দাগ কাটে।

বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিককে নতুন সঙ্গীত শাখার সঙ্গে পরিচিত করার ক্ষেত্রে নিলয় দাশের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি শিষ্যদের হাতে ধরে বিভিন্ন সঙ্গীতের শাখা শেখাতেন।

২০০৬ সালের ১১ জানুয়ারি নিলয় দাশ এই পৃথিবীকে ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, 'নিলয় দাশের মতো করে বাংলাদেশে আর কেউ গিটার বাজাতে পারেন না।'

নিলয় দাশের জন্মদিনে তাকে স্মরণ করে বলা যায়, তিনি বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের ইতিহাসে একটি অমর নাম।

বিজ্ঞাপন