বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘সুপার এল নিনো’ পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আবহাওয়া পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে। আফ্রিকা মহাদেশের তীব্র গরম এবং ব্রাজিলের শহরগুলোর বন্যা এই প্রাকৃতিক ঘটনার ফলস্বরূপ।
এল নিনো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের পানি হঠাৎ গরম হয়ে যায়। গবেষকরা জানিয়েছেন, এবারের ‘এল নিনো’ প্রভাব রেকর্ড ভাঙছে, কারণ প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে গেছে।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই ‘এল নিনোর’ প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে, বিশেষ করে গরিব এবং দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোতে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সুদান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশও এই ‘সুপার এল নিনো’ প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৬০০-র বেশি মানুষ তীব্র গরমের কারণে মারা যেতে পারে। খুলনা, বরিশাল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলগুলি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে।
বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। ভারতে চালের উৎপাদন কমতে পারে গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে।
বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ‘এল নিনো’ এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে, সময়মতো ব্যবস্থা নিলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
প্রতিকার হিসেবে তাপ-সতর্কতা জারি করা, পর্যাপ্ত কুলিং সেন্টার তৈরি করা এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। এই পদক্ষেপগুলো বাঁচাতে পারে লাখো মানুষের প্রাণ।