কোনো পুলিশ সদস্য মাদক সংশ্লিষ্টতায় জড়িত থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান, মাদক কারবারির পাশাপাশি মাদকের গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
বুধবার (২২ জুলাই) যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, প্রয়োজনে তাদের আয়ের উৎস অনুসন্ধান করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পুলিশ মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে, এবং কোনো মাদক কারবারিকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না।
তিনি বলেন, শুধুমাত্র কারবারিদের গ্রেফতার করলেই হবে না, বরং এই চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। মাদক নির্মূলের জন্য সমাজের সকল স্তরের সহযোগিতা প্রয়োজন।
এসময় কিশোর গ্যাং দমনে খুলনা বিভাগের সব জেলা পুলিশ সুপারকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে প্রযুক্তিনির্ভর বিশেষ টিম গঠনের কথাও জানান তিনি। এই টিম সার্বক্ষণিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম পর্যবেক্ষণ করবে এবং জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
এর আগে, যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে পৌঁছালে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমানকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি জলপাই গাছের চারা রোপণ করেন, যা সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে করা হয়।