রাজধানীতে মাদক তৈরির কারখানার সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ বছর অন্তত ৬টি নতুন মাদক কারখানার সন্ধান পেয়েছে। গত কয়েক বছরে ১০টিরও বেশি কারখানার সন্ধান মিলেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে তৈরি হচ্ছে বিদেশি মাদক কুশ, কেটামিন, ইয়াবা এবং ভেজাল মদ। এসব মাদক রাজধানীতে ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্ত পেরিয়ে মাদক আসার খবর এখন পুরনো হয়ে গেছে।
অভিযানকালে ওয়ারীর একটি বাসায় কুশ চাষের বিশেষ ল্যাব পাওয়া যায়। সেখানে কৃত্রিম আলো, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছিল। তদন্তে জানা যায়, এই ল্যাবের তদারকি করছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী এক ব্যক্তি।
এছাড়া, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ভেজাল মদের কারবার ধরা পড়ে। এক ফ্ল্যাটে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ তৈরি ও সংরক্ষণের কাজ চলছিল।
ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা কারখানার সন্ধান মেলে, যেখানে কাঁচামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। মার্চে উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে কেটামিনের ল্যাব আবিষ্কৃত হয়, যেখানে এক চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
জুলাই ও আগস্টে কেরানীগঞ্জের দুই এলাকায় ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে যন্ত্রপাতি বসিয়ে মাদক তৈরি হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মাদক তৈরির এই কর্মকাণ্ডে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হতবাক হয়ে গেছে। মাদক প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গত ৫ বছরে ১০টি মাদক কারখানার সন্ধান মিলেছে, যার মধ্যে চলতি বছরেই ৬টি পাওয়া গেছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বিদেশীদের ওপর বাড়তি নজর রাখা হচ্ছে। বিদেশে বসে যারা মাদক তৈরি ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।