রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা-জামালপুর রুটের বাবুল পরিবহনের চালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মহাখালী থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় বাসটিও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জব্দ করা গাড়িতে গামছা পাওয়া গেছে এবং চালক সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগের মামলা ছিল। বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ৪ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৯টার দিকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রযুক্তির সহায়তায় তার আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
নিহত ব্যক্তি ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং মরদেহ উদ্ধারের সময় তার পরনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট ও লুঙ্গি ছিল। পুলিশ ধারণা করছে, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে তার মরদেহ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নিহতের ছেলে হাসান জানান, তার বাবা জামালপুর থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ছোট বোন শারমিনের বিয়ের জন্য। তিনি বিয়ের খরচের টাকা সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ৪ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুরের বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না।
ইসমাইল হোসেন ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। প্রায় নয় মাস আগে অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন। তিনি সম্প্রতি জামালপুরে ফিরে যান এবং সেখানে তার মা ও বড় বোনের সঙ্গে থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে জমি বিক্রি করে টাকা নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ইসমাইল, কিন্তু বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার আগেই তার মৃত্যু ঘটে।