উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিস্তা, ধরলা, সুরমা ও উপদাখালীসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।
বুধবার সকালে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বইছে, ফলে লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারেজের সব জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকার কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করায় পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ভাঙনের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙনের তীব্রতা কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নীলফামারী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম যাকারিয়া বলেন, 'স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি ভাঙনের তীব্রতা কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
রংপুরের গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চলে এখনও প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন এবং ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন বেড়েছে।
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ৪০টি পয়েন্টে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসন সাত শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চিহ্নিত করেছে। সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে, তবে আগামী শুক্রবার থেকে আবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
নেত্রকোণায় উপদাখালী নদীর পানি কমলেও ধনু ও মগড়া নদীর পানি বাড়ছে। শেরপুরে সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, কিন্তু উজানে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।