বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারে আগুন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘর্ষ অব্যাহত মাদারীপুরে ৭ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে শিক্ষক আটক ইরানে মার্কিন হামলা, কুয়েতে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত, কুয়েতে পাল্টা হামলার দাবি ইরানের গায়ানায় ফেরি দুর্ঘটনায় ২৭টি মৃতদেহ উদ্ধার গায়ানায় ফেরি ডুবির ঘটনায় ৬৬ যাত্রী নিখোঁজ, প্রাণহানির শঙ্কা হরমুজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, টানা ৯ রাতের উত্তেজনা অব্যাহত হরমুজে উত্তেজনা বৃদ্ধি: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলা অ্যান্ড্রু ও ট্রিস্টান টেটের গ্রেফতার: যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা মার্কিন সেনা নিহতের প্রতিশোধে ইরানে ৮ম দফা হামলা
রাজনীতি

দিল্লিতে 'তেলাপোকা' আন্দোলনে মোদির সরকারের চ্যালেঞ্জ

দিল্লিতে 'তেলাপোকা' আন্দোলনে মোদির সরকারের বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ছে।

দিল্লিতে 'তেলাপোকা' আন্দোলনে মোদির সরকারের চ্যালেঞ্জ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি একটি নতুন আন্দোলন শুরু হয়েছে, যা সাধারণত ক্ষমতার ভাষায় শোনা যায়। এই আন্দোলনটি 'তেলাপোকা' নামে পরিচিত, যা শুরু হয়েছিল ঠাট্টা-বিদ্রূপ দিয়ে, কিন্তু এখন তা সংসদের দরজায় পৌঁছেছে। আন্দোলনকারীরা হাজার হাজার মানুষের মিছিলে পরিণত হয়েছে এবং তাদের থামাতে ব্যারিকেড, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জও ব্যবহার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি সংসদ অভিযানের ডাক দেয়। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার।

হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে এগোতে শুরু করলে দিল্লি পুলিশ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড বসায় এবং অনেক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত করে। সংসদের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, কিন্তু আন্দোলনকারীরা এগিয়ে যান। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন এবং ৭০ জনেরও বেশি আন্দোলনকারী আটক হন।

এই আন্দোলনের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হলেন পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, যিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সাক্ষাতের সুযোগ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন ভাঙবেন না।

সরকারের পক্ষ থেকেও প্রথমবারের মতো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, তাদের তিনটি মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন বন্ধ হবে না।

এই আন্দোলন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কয়েক মাস আগে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি এখন লাখো তরুণের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এটিকে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় যুব-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ হিসেবে চিহ্নিত করছে।

এখন প্রশ্ন হল, সরকার কি আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, নাকি এই ছাত্র-যুব আন্দোলন আরও বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নেবে? দিল্লির রাজপথে শুরু হওয়া এই লড়াই ভারতের তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির এক বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন