ভারতের সদ্য পদত্যাগ করা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক উত্থান ও পতনের গল্পটি প্রশ্নফাঁস ইস্যুর সঙ্গে জড়িত। ১৯৯৭ সালে উড়িষ্যা রাজ্যে প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হয়ে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান গুরুতর আহত হন, কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সফল হয় এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হয়। এরপর তিনি বিজেপির মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং ২০০০ সালে উড়িষ্যা বিধানসভায় নির্বাচিত হন।
২০১৪ সালে বিজেপির কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করেন এবং ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হন। কিন্তু ২০২৬ সালে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান সোশ্যাল মিডিয়ায় পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এই পদক্ষেপটি তার ‘ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়’ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।
ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ পদত্যাগকে তাঁদের আন্দোলনের প্রথম জয় হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর মোদি সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলি পূরণের আশ্বাস দেয়, ফলে আন্দোলন স্থগিত করা হয়।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই রাজনৈতিক পরিণতি আবারও প্রমাণ করে, রাজনীতিতে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি কতটা অদ্ভুত। এখন প্রশ্ন হলো, তার পদত্যাগ কি ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নফাঁসের কেলেঙ্কারি থেকে মুক্তি দেবে?