মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
তথ্যপ্রযুক্তি

দিল্লির ককরোচ আন্দোলনে বিটচ্যাটের ভূমিকা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা

দিল্লির ককরোচ আন্দোলনে বিটচ্যাটের ব্যবহার ও সরকারের উদ্বেগ নিয়ে বিশ্লেষণ।

দিল্লির ককরোচ আন্দোলনে বিটচ্যাটের ভূমিকা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা

সম্প্রতি দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে সক্ষম হন। এর পেছনে রয়েছে বিটচ্যাট নামক একটি নতুন প্রযুক্তি।

বিটচ্যাট, যা ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি দ্বারা উন্মোচিত হয়, একটি 'পিয়ার-টু-পিয়ার' অফলাইন মেসেজিং অ্যাপ। এটি ব্যবহার করতে ইন্টারনেট বা ফোন নম্বরের প্রয়োজন হয় না।

এই অ্যাপটি ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে, যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে মেসেজ পাঠাতে সক্ষম। ব্যবহারকারী যখন মেসেজ পাঠান, বিটচ্যাট তা অন্যান্য ব্যবহারকারীদের ফোনে রিলে করে, ফলে মেসেজটি দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছায়।

বিটচ্যাটের সুবিধা শুধু রাজনৈতিক আন্দোলনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও কার্যকরী হতে পারে, যখন সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে।

তবে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সাইবার ক্রাইম বিভাগ বিটচ্যাটের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা গিটহাব থেকে এই অ্যাপের সোর্স কোড সরানোর নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের উদ্বেগের কারণ হলো, বিটচ্যাটের মাধ্যমে অপরাধমূলক কার্যকলাপ ট্র্যাক করা সম্ভব নয় এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়।

ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা সরকারের এই পদক্ষেপকে বাক-স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে। প্রযুক্তির এই নতুন উদ্ভাবন কি আগামী দিনে ইন্টারনেট শাটডাউনের একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে, তা সময়ই বলবে।

বিজ্ঞাপন