কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ নভেম্বর পর্যন্ত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। দেশে গ্যাসের চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান বাড়ছে, যা দেশের রান্নাঘর থেকে শুরু করে শিল্পকারখানার কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
২৮ সেপ্টেম্বর কাতারএনার্জি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এলএনজি সরবরাহে ফোর্স মেজর ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যদিও কাতার এলএনজি রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করেনি, তবে অনিশ্চয়তা বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু সরবরাহ মাত্র ২.৬ থেকে ২.৭ বিলিয়ন ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে এলএনজির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে আমদানি করা এলএনজি জাতীয় গ্রিডে প্রবাহিত হয়। টার্মিনালে সমস্যা হলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে। জুলাইয়ে একটি টার্মিনালে দুর্ঘটনার পর সরবরাহ কমে যায়, যা সেপ্টেম্বরের খারাপ আবহাওয়ার কারণে আরো বৃদ্ধি পায়।
এদিকে, পাইপলাইনের গ্যাসের চাপ কমে গেলে মানুষ এলপিজি সিলিন্ডারের দিকে ঝুঁকছে। সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১,৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হলেও, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডার ২,০০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
সরকারি ও আমদানিকারকদের দাবি, দেশে এলপিজির ঘাটতি নেই, তবে খুচরা বাজারে সরবরাহের অভাব দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য জরুরি হলো, কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হলে অন্যান্য উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহ করা। তবে, আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির ফলে আমদানির খরচও বাড়বে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের গ্যাসের উৎস বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হলো, কাতারের এলএনজি সরবরাহ অনিশ্চিত হলে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত? দেশের চুলা, কারখানা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে কি যথেষ্ট প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে?