মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট: কারণ ও সমাধানের পথ

বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের পেছনে রয়েছে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা ও স্থানীয় উৎপাদন হ্রাস।

বাংলাদেশে তীব্র গ্যাস সংকট: কারণ ও সমাধানের পথ

বাংলাদেশ বর্তমানে এক তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে চুলায় আগুন জ্বলছে না এবং সিএনজি স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দেখা যাচ্ছে। দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২,৬০০ থেকে ২,৭০৬ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে নেমে এসেছে মাত্র ২,১৫০ মিলিয়নে।

এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বিকল হয়ে গেছে, যার মেরামতের কাজ চলছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে গেছে, যা গত ফেব্রুয়ারিতে ১০.৬০ ডলার থেকে বর্তমানে ২১.৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। তৃতীয়ত, কাতার সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

দেশের স্থানীয় গ্যাস উৎপাদনও মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। প্রতিবছর ১৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, এবং বর্তমানে দৈনিক চাহিদা ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যেখানে ঘাটতি রয়েছে ১,২০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

সরকার এই সংকট উত্তরণের জন্য চায়না ন্যাশনাল এনার্জি কোম্পানিকে নতুন এলএনজি টার্মিনাল তৈরির অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ১৩ বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৩ থেকে ৪ বছর সময় লাগবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, "স্বল্পমেয়াদী সমাধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনা কিছুটা কাজে লাগতে পারে, তবে স্থায়ী সমাধান হলো নিজস্ব অনুসন্ধান চালানো।"

এখন সরকার ১০০টি নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আধুনিক ভূ-কম্পন জরিপের মাধ্যমে সঠিক তথ্য বের করার চেষ্টা করছে। তবে আপাতত গ্যাস সংকটের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন