বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির অভাবে অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে বর্তমান কর্মবাজারের চাহিদার সাথে সমন্বয় না করা হলে এই সংকট থেকে উত্তরণ কঠিন হবে।
দেশের একটি সনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক তাহরিমা বলেন, “পড়াশোনা শেষ হলেই জীবন বদলে যাবে, এই আশায় ছিলাম। কিন্তু এখন শুধু অপেক্ষা ও হতাশা।” তার মতো অনেক শিক্ষিত তরুণ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
দেশে প্রতি তিনজন বেকারের মধ্যে একজন উচ্চশিক্ষিত। এছাড়া, গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন চাকরির জন্য অন্তত দুই বছর ধরে অপেক্ষা করছেন।
বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ২০ হাজার, যার মধ্যে ৮ লাখ ৮৫ হাজার উচ্চশিক্ষিত।
বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর বলেন, “দেশের উচ্চশিক্ষিত বেকাররা উৎপাদনশীল খাতে অংশগ্রহণ করতে না পারলে রাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও তাদের মেধা অপচয় হচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদ মাহফুজ কবির বলেন, “বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নতুন শিল্প স্থাপন এবং উদ্যোক্তা তৈরি করতে হবে।”
এদিকে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরির হার কমে যাওয়ায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন, যা দেশে দক্ষ জনবলের সংকট সৃষ্টি করছে।