বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের সংকট

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের চাকরির বাজারে উচ্চশিক্ষিতদের বেকারত্বের সংকট

বাংলাদেশে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। পাবনা জেলা প্রশাসনের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনই উচ্চশিক্ষিত। এই পদের জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ৮ হাজার মানুষ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষিতদের বেকারত্বের হার ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। মোট বেকার人数 ২৬ লাখ ২৪ হাজার, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়শিক্ষিত বেকার ৮ লাখ ৮৫ হাজার।

আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২৯ শতাংশ। এই দুটি হিসাব ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা পরিস্থিতির জটিলতা নির্দেশ করে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএসের ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত কলেজের ১ হাজার ৩৪০ জন স্নাতকের মধ্যে ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ বেকার। নারীদের মধ্যে এ হার ৩৪ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ১৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

আইএমএফের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষিত চাকরিজীবীদের প্রায় অর্ধেক এমন পেশায় আছেন, যেখানে তাদের শিক্ষার স্তরের পুরো প্রয়োজন পড়ে না।

দক্ষতার ঘাটতি এবং চাকরির অভাব উভয়ই এই সংকটের কারণ। বিআইডিএসের গবেষণায় নিয়োগদাতারা আইসিটি, ইংরেজি, যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান ও দলগতভাবে কাজ করার দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছেন।

তবে সমস্যা শুধু দক্ষতার নয়, চাকরির সংখ্যারও। আইএমএফ জানায়, মানুষের শিক্ষাগত যোগ্যতা যে গতিতে বেড়েছে, সেই গতিতে উচ্চমানের চাকরি তৈরি হয়নি।

এদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চাকরির বাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে। এআইয়ের প্রভাব বেশি এমন পেশায় নিয়োগের চাহিদা কমেছে।

সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পের যোগাযোগ বাড়ানো, ইন্টার্নশিপ ও বাজারমুখী দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন রয়েছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে।

বিজ্ঞাপন