জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অসন্তোষের কারণে ফ্রান্স, ইতালি সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা বাড়ছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা।
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হচ্ছে সবচেয়ে বড় বাজার। গত অর্থবছরে ইইউতে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯০৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে পোশাক আমদানি ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপের যেকোনো দেশে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে আমাদের ক্ষতি হয়।”
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ইউরোপে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাবও পোশাক রপ্তানিতে পড়ছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারণে ইউরোপের দেশগুলো বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে পোশাকের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশকে ইউরোপের সাথে দীর্ঘমেয়াদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন। নলেজ হাব ইন্সটিটিউটের সভাপতি খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “ইইউ আমাদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে আমরা প্রতিযোগিতায় সক্ষম হব।”
পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, ইউরোপভিত্তিক বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রয়কৌশলে পরিবর্তন আনছে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ থেকে কিছু ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিচ্ছে ভারত, মিসরসহ অন্যান্য গন্তব্যে।