জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১২০ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলারে নেমে আসে।
মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) আগামী সপ্তাহের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে বিনিয়োগকারীরা দৃষ্টি রাখছেন, যা স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হুতিদের হামলা ও পারস্য উপসাগরে জাহাজে আক্রমণের খবরে জ্বালানি বাজারে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি যুক্ত হয়েছে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন ফিউচার গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স চার হাজার ১৩৯ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাক্টিভট্রেডস’-এর প্রধান নির্বাহী রিচার্ডো এভানজেলিস্তা জানান, জ্বালানির উচ্চ মূল্যের কারণে সৃষ্ট স্থায়ী মূল্যস্ফীতির চাপ ফেডের কঠোর মুদ্রানীতি ও সুদের হার অব্যাহত রাখার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
শিকাগো মার্চেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ‘ফেডওয়াচ টুল’-এর তথ্য মতে, আগামী ২৭-২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কম, তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
স্বর্ণ সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিপরীতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিন্তু সুদের হার বাড়লে অন্যান্য লাভজনক খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বৃদ্ধি পায়, ফলে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।
এদিকে, জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদা জানিয়েছেন, তাদের মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে, তবে প্ল্যাটিনামের দাম ০ দশমিক ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৬৩৯ দশমিক ৪৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে এক হাজার ১১০ দশমিক ০৬ ডলারে নেমে এসেছে।