ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিয়েছে, যার ফলে শুক্রবার ৭ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শ্রেণিকক্ষের দুরাবস্থা, শিক্ষক সংকট এবং শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ কমানোর প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় প্রায় দুই হাজার জনকে আটক করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরের শেষে প্যারিসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় স্কুলে থাকার ফলে পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা শিক্ষা খাতের অর্থায়ন এবং প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ক্লাসে ৩৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষকও কমে গেছে, ফলে আমরা পড়াশোনার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না। পরিস্থিতি এখন সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’
শিক্ষার্থীদের সমর্থনে অভিভাবকরাও আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন, এবং দেশটির শিক্ষক ইউনিয়ন ধর্মঘট ডেকেছে। এক শিক্ষক মন্তব্য করেন, ‘বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উপেক্ষিত হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই তাদের দাবিগুলো তোলা স্বাভাবিক।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অন্তত এক হাজার স্কুলে বিক্ষোভ হয়েছে, যার মধ্যে ২ শতাধিকের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ ছিল। শুক্রবার ৪০০-এর বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়, এবং শতাধিক হাইস্কুলে গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জানিয়েছেন, আটক শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এছাড়া, বিক্ষোভের সময় ১৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৫০ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩০০ পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীও রয়েছেন। সরকার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ যৌক্তিক মনে করলেও সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে।
সরকারের দাবি, বামপন্থিরা আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে, ফলে বিক্ষোভ কয়েকটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।