গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ উঠেছে। কুশনারের মালিকানাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি পার্টনার্স ইসরায়েলভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অংশীদার।
সিএনএনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানটি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে, কুশনারের অ্যাফিনিটি গত বছর ফিনিক্স ফাইন্যান্সিয়ালের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব দ্বিগুণ করে।
ফিনিক্স, ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস-এ শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীকে বিভিন্ন সরঞ্জাম সরবরাহকারী অন্তত আটটি কোম্পানিতে তাদের অংশীদারত্ব রয়েছে।
কুশনার, যিনি ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছেন, গাজা পুনর্গঠন এবং বৈশ্বিক পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা করেছেন। তবে, গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সিএনএন জানিয়েছে, কুশনারের কূটনৈতিক ভূমিকা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সিটিজেনস ফর রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড এথিকস ইন ওয়াশিংটন-এর আইনজীবী সিনথিয়া ব্রাউন বলেন, যারা নীতি নির্ধারণে কাজ করেন, তাদেরই সেই নীতি থেকে লাভবান হওয়া উচিত নয়।
কুশনারের আইনজীবী সিএনএনকে জানিয়েছেন, কুশনার কখনো ফিনিক্সের বিনিয়োগের বিষয়ে নির্দেশনা দেননি এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন না। তবে, তিনি ফিনিক্সের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
আইনজীবীর দাবি, কুশনারের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ফিনিক্সের বিনিয়োগে প্রভাব ফেলেছে, এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু কুশনারের বিনিয়োগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভ হয়েছে। জুলাই মাসে অ্যাফিনিটি ফিনিক্সে তাদের অংশীদারিত্বের এক-চতুর্থাংশ বিক্রি করে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে।