গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত ভেস্তে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে।
গত ২৭ জুলাই ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর চার দিন পর গাজা যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ঘোষণা করেন ট্রাম্প, যা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে রোববার নেতানিয়াহু ট্রাম্পের ১৫ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে জানান, হামাস নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
নেতানিয়াহুর এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগকে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং নতুন করে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চলতি বছরের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। বিশ্লেষকরা মন্তব্য করছেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে অসম্মানিত হতে পছন্দ করেন না, তাই নেতানিয়াহুর এই অবস্থান তাঁর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে। যদিও ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন এআইপ্যাক বিপুল অর্থ ব্যয় করছে, তবুও ইসরায়েলকে সহায়তা কমানোর পক্ষে অনেক প্রার্থী প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান দলের ওপর ট্রাম্পের প্রভাব এখনো ব্যাপক, এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি চাইলে ইসরায়েল ইস্যুতে দলের অবস্থানে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।
এদিকে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই সিদ্ধান্তকে তাঁর রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজা যুদ্ধবিরতি, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও ট্রাম্প-নেতানিয়াহু সম্পর্ক— সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন-তেল আবিবের সম্পর্ক এখন নতুন পরীক্ষার মুখে বলছেন বিশ্লেষকরা।