কলম্বিয়ায় ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে ১৩২ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা থাকায় হতাহত সংখ্যা বাড়তে পারে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ভূমিকম্পের পর অন্তত ২১টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্যালি শহরের বাসিন্দা আন্দ্রেস বুরবানো বলেন, ‘আমার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আমার স্ত্রী তখন ভেতরে ছিলেন। সৌভাগ্যবশত, আমার মেয়ে বের হতে পেরেছে।’ তিনি জানান, এখনও স্ত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ভূমিকম্পের সময় প্রথমে শান্ত ছিলেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন এর তীব্রতা অনেক বেশি।
ক্যালি শহরের মেয়র মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছেন। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
ফায়ার ফাইটার ও উদ্ধারকর্মী ড্যানিলো প্রাডা জানান, ‘এখানে একটি ৪তলা ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ক্যালি ছাড়াও পশ্চিম কলম্বিয়ার পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেড় হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধশতাধিক পুরোপুরি ধসে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। এল সালভাদর ও মেক্সিকো উদ্ধারকারী দল ও চিকিৎসা সহায়তায় পাশে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
ভেনেজুেলায় জোড়া ভূমিকম্পের দুমাস না পেরোতেই সোমবার প্রতিবেশি কলম্বিয়ায় এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।