বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে ফিরছে যুদ্ধের পর

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাব ফুটবল পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল সেপ্টেম্বর থেকে মাঠে ফিরছে যুদ্ধের পর

গাজা যুদ্ধের ফলে প্রায় তিন বছর বন্ধ থাকার পর আবারও মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনের ক্লাব ফুটবল। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

১০ আগস্ট রামাল্লায় এক সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রজব জানান, '৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্রীড়া কার্যক্রম এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের লিগ পুনরায় শুরুর ঘোষণা দিচ্ছি।' ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ফিলিস্তিনের পেশাদার ফুটবলসহ প্রায় সব ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়।

ফিরতি টুর্নামেন্টটির নাম 'থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ' বা 'হাজার শহীদের কাপ' রাখা হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করতেই এই নামকরণ করা হয়েছে।

টুর্নামেন্টে ২০০টিরও বেশি ক্লাব অংশগ্রহণ করবে, যার মধ্যে পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোর ৩৬টি ক্লাব রয়েছে। তিনটি অঞ্চলেই একই সময়ে টুর্নামেন্টের খেলা শুরু হবে।

রজব বলেন, 'যুদ্ধ আমাদের খেলাধুলা বন্ধ করতে বাধ্য করেছে।' তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার কারণে তাদের সব ধরনের প্রতিযোগিতা স্থগিত করতে হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি জাতীয় চেতনা হারাইনি। খেলাধুলা যে আশা ও জীবনের প্রতীক হয়ে থাকবে, সেই বিশ্বাসও হারাইনি।' তবে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং ক্লাবগুলো কঠিন আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে।

রজব আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা ও অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খেলোয়াড়, ক্লাব ও শিশুদের 'স্বাধীনতা ও মর্যাদার সঙ্গে' খেলাধুলায় অংশগ্রহণের অধিকার রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটির দাবি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে পরিচালিত ফুটবল ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে ফিফার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত।

রজব বলেন, 'আমরা কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছি না; আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইন ও সনদে নিশ্চিত করা বৈধ অধিকারই আমরা দাবি করছি।' যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের পর ফিলিস্তিনি ফুটবলের মাঠে ফেরা শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুনরারম্ভ নয়, বরং এটি আশা, জীবন ও জাতীয় চেতনা ধরে রাখার একটি প্রতীক।

বিজ্ঞাপন