কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৫৭০ জন। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানার পর জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ায় আতঙ্কে মানুষ ঘরবাড়ি, কর্মস্থল ও স্কুল থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কলম্বিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যাপিটাল সিটিজের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৭.৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে নিহতদের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পেরেইরায় অন্তত ৬৬ জন মারা গেছেন।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্প ও পরবর্তী জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি রাজধানী শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত ৮৬টি ভবন ধসে পড়েছে এবং সাতটি বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। কালি শহরের মেয়র জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১৮৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
পেরেইরা শহরে একটি কেবল কার ব্যবস্থায় প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর কেবল কারে আটকা পড়েন তারা।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ১৫.৫ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, এই অর্থ ক্ষতিগ্রস্তদের আশ্রয়, খাবার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করা হবে।
কলম্বিয়ার বিখ্যাত ‘কফি অঞ্চল’-এ আঘাত হানা এই ভূমিকম্প দেশটির অর্থনীতি ও সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৯ সালে এই অঞ্চলে আঘাত হানা একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ১ হাজার ২শ' মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ করছেন।