দক্ষিণ আমেরিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোতে কোটি মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
২৪ জুন, ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র দুই মাস পর ১০ আগস্ট কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। উভয় ভূমিকম্পে ব্যাপক হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে অনেক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পও অনুভূত হয়। এই পরপর বড় ভূমিকম্পের ঘটনায় 'রিং অব ফায়ার' অঞ্চলের আলোচনা আবারও তীব্র হয়েছে।
'রিং অব ফায়ার' হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা একটি বিশাল ভূ-অঞ্চল যা পৃথিবীর অন্যতম সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক এলাকা। এখানে একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
ইন্দোনেশিয়া সরাসরি রিং অব ফায়ারের অংশ হওয়ায় দেশটিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়। যদিও কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা রিং অব ফায়ারের মূল বেল্টের অংশ নয়, তবুও তারা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূ-সক্রিয় অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থিত।
ভূতাত্ত্বিকদের মতে, নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ার কারণে কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেশি। ভেনেজুয়েলা ক্যারিবিয়ান প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের সীমানার কাছে থাকায় এখানেও ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে।
রিং অব ফায়ারের অবস্থানের কারণে ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ফিলিপাইন, নিউজিল্যান্ড, আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাংশ, মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ সীমানা ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে, বড় ভূমিকম্প শুধু রিং অব ফায়ারেই সীমাবদ্ধ নয়; পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে টেকটোনিক প্লেটের সীমানা থাকলে সেখানেও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঝুঁকি থাকে।