নেপালে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার মানুষ। উদ্ধারকারী দল ও সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে নেপাল-চীন সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে।
নেপালি কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যায় ১ হাজার ৪৬৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশি পর্যটক। ভারতীয় নাগরিকরাই নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। নতুন পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দেড় শতাধিক নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছে।
এদিকে, নেপালে বন্যার পরিস্থিতির মধ্যে আরও একটি বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী তিব্বতে ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ‘লেভেল-৪’ দুর্যোগ সতর্কতা জারি করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, গত বুধবারের ভূমিধসের পর দুটি নদীর মিলনস্থলে একটি প্রাকৃতিক জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত পানির চাপে এই জলাধার ভেঙে গেলে নিচের দিকে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে।
নেপাল-চীন সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় এই সপ্তাহে হিমবাহ ধস হয়েছে। এর পর গত বুধবার ভয়াবহ পানি ও কাদার স্রোত কয়েকতলা ভবনের সমান উচ্চতায় নেমে আসে ভোটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী ট্রেকিং রুট ও জনপদগুলোতে।
বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার কয়েকটি এলাকা। সেখানকার বহু জনবসতি তলিয়ে যায় এবং প্রবল স্রোত ঘরবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা গ্রাস করে নেয়। পানির তোড়ে ভেসে গেছে অনেক ভবন ও সেতু।