শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

নেপালে আকস্মিক বিপর্যয়ে ৩৩২ জনের মৃত্যু, জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা

নেপালে আকস্মিক বিপর্যয়ে ৩৩২ জনের মৃত্যু, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ।

নেপালে আকস্মিক বিপর্যয়ে ৩৩২ জনের মৃত্যু, জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা

নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রসুয়া জেলায় ঘটে গেল শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ও নৃশংস আকস্মিক বিপর্যয়। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩২ জনেরও বেশি মানুষ, আর নিখোঁজ অন্তত দেড় হাজার, যার অর্ধেকই বিদেশি পর্যটক। বিস্ময়করভাবে, এই দুর্যোগের পেছনে কোনো ঝড় বা বৃষ্টি ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি উপত্যকার ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে থাকা বিশাল এক হিমবাহের নিচের অংশ প্রচণ্ড গরমে গলে ভেঙে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লেসিওলজিস্ট ড্যান শুগার এবং ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ বিক্রম গুপ্ত জানান, বরফের চাঁই নিচে এসে আছড়ে পড়ার ফলে আইস-রক অ্যাভালাঞ্চ তৈরি হয়।

এই ধসের ফলে লেন্দে নদীর গতিপথ সম্পূর্ণ আটকে যায়, ফলে একটি কৃত্রিম পানির বাঁধ তৈরি হয়। কিন্তু এই বাঁধ বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি। পানির প্রচণ্ড চাপে বাঁধ ভেঙে গেলে ভোতেকোশি এবং ত্রিশূলি নদীর পানি মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ৯ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে উঠে যায়।

ঘটনার পরপরই নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের কারণে এই ভূমিধস হয়েছে। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস পরে নিশ্চিত করে যে, ভূমিকম্পের কারণ ছিল বরফ ও পাথরের চাঁই ভেঙে পড়ার ধাক্কা।

বিশেষজ্ঞরা জানান, এই পানির ঢল ছিল স্বাভাবিক পানি নয়। বরং পাহাড়ের হাজার হাজার টন মাটি, পাথর ও বরফ মিশে তৈরি হওয়া কাদার ঘনত্ব তরল কংক্রিটের মতো ছিল। এর ফলে পালানোর সুযোগ ছিল না।

জাতিসংঘের ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নেপালের হিমালয় অঞ্চলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বরফ গলে গেছে। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন যে, নদীর উজানে এখনো পাহাড় ও পলির বাঁধ পরিষ্কার হয়নি, ফলে যেকোনো মুহূর্তে দ্বিতীয় কোনো ভয়াল ঢল তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন