শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি ও জনমনে সন্দেহ

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডে পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি ও জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

রংপুরে চার হত্যাকাণ্ড: পুলিশের বক্তব্যে অসঙ্গতি ও জনমনে সন্দেহ

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের হত্যাকাণ্ডে দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গণপতি, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং ১২ বছরের শিশু আয়ুশ। এই চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশি বক্তব্যে অসঙ্গতি ও জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল এবং ধরন নিয়ে পুলিশের প্রথম বক্তব্যে বলা হয়েছিল মা ও মেয়েকে তিনতলা সিঁড়িতে হত্যা করা হয়েছে এবং আয়ুশকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু মাত্র চার দিন পর পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য পরিবর্তিত হয়। নতুন তথ্য অনুযায়ী, মা ও মেয়েকে ছাদে হত্যা করা হয়েছে এবং আয়ুশকে ঘুম থেকে উঠে আসামিকে দেখে ফেলায় হত্যা করা হয়েছে।

হত্যার কারণ সম্পর্কেও পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে বলা হয়েছিল ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কিন্তু পরে জমিজমা সংক্রান্ত পুরনো ক্ষোভের কথা বলা হয়। এই পরিবর্তনগুলো তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়ই অনুমাননির্ভর বক্তব্য দেয়, যা তদন্তের সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ বিবিসি বাংলাকে জানান, স্পর্শকাতর ঘটনায় পুলিশ ক্রেডিট নেওয়ার মানসিকতা থেকে অনুমান প্রকাশ করে।

পুলিশ কমিশনারের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়া এবং মাত্র দুটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ঘটনা আরও সন্দেহ বাড়িয়েছে। তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বেড়েছে।

এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা, কুমিল্লার তনু হত্যা, ফেনীর নুসরাত হত্যা এবং মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা বলেছেন, পুলিশ সরকারের নির্বাহী বিভাগের অংশ হওয়ার কারণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

জনগণের এই অনাস্থা ও অবিশ্বাসের পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। অপরাধবিজ্ঞানীরা জানান, অনুমাননির্ভর বক্তব্য আমাদের বিচার ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। সঠিক সময়ে ফরেনসিক টেস্ট এবং তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে আসল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে।

গণপতি চক্রবর্তী এবং তাঁর পরিবারের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখন ডিবি পুলিশের হাতে। জনগণ চায় নির্ভেজাল সত্য ও নিরপেক্ষ বিচার, যেন তদন্ত সংস্থাগুলো হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারে।

বিজ্ঞাপন