রংপুরের তাজহাট আনছারি এলাকায় বন্ধ রিকশা গ্যারেজের শাটারের বাইরে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। গ্যারেজের ভেতর তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল গ্যারেজ মালিক আব্দুর রহমানের গলাকাটা মরদেহ। বুধবার রাতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা গ্যারেজের শাটারের বাইরে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। তাজহাট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্যারেজের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত আব্দুর রহমান ওই গ্যারেজের মালিক ছিলেন এবং তিনি একাই গ্যারেজ সংলগ্ন একটি বাসায় বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও তিন ছেলে রয়েছে, যারা অন্যত্র বসবাস করেন। স্থানীয়রা জানান, আব্দুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজের দেখাশোনা ও ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
ঘটনাস্থলে রক্তের দাগের পাশাপাশি গ্যারেজের ভেতরে মরদেহের পরনের পোশাকেও রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে গ্যারেজটি কীভাবে বাইরে থেকে বন্ধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর হোসেন জানান, গ্যারেজে টাকা লুটের উদ্দেশ্যে আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হতে পারে। পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি টাকা লুটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘটেছে। তবে গ্যারেজ থেকে কত টাকা খোয়া গেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহতের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা ও গ্যারেজে নিয়মিত যাতায়াত করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হবে।