কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এস্প্রিয়েল্লার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই ভূমিকম্পে ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছে।
বিপর্যয়ের পর, প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলা দেশজুড়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী আশ্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং মানবিক সহায়তা বিতরণ।
কলম্বিয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রতি যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি সেবা কর্মীরা কাজ শুরু করেন।
সরকারি সূত্র জানায়, রিসারালদা অঞ্চলে অস্থায়ী সহায়তা হিসেবে পরিবারগুলোর জন্য ভাড়া সহায়তা এবং তিন মাসের জন্য utility বিল স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
তবে, পূর্ববর্তী সরকার থেকে সঠিক হস্তান্তরের অভাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইউনিট একটি অস্বচ্ছ অবস্থায় রয়েছে। এর ফলে, নতুন এবং পুরানো সরকারের কর্মকর্তাদের মধ্যে সহযোগিতার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল চোকো অঞ্চলের কিছু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের অবহেলার শিকার। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন হচ্ছে।
এছাড়াও, ভূমিকম্পের কারণে ছয়টি বিমানবন্দর বন্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাস্তা ভূমিধসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যালির একটি হাসপাতালের কয়েকটি তলা ধসে পড়েছে, যার ফলে ৬০০ রোগীকে অস্থায়ী তাঁবুতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট দে লা এস্প্রিয়েলার জন্য এটি একটি অবিলম্বে এবং অপ্রত্যাশিত পরীক্ষা। তিনি কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন এবং রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে উঠতে পারেন, তা তার প্রেসিডেন্সিকে সংজ্ঞায়িত করবে।