নেপাল-তিব্বত সীমান্তে গত বুধবার সকালে এক ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে, যা হিমবাহের আকস্মিক ধসের কারণে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনার ফলে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন যে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর প্রবণতার সূচনা।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বিশাল বরফ ও পাথরের ধস নামে। এর ফলে কাদা, পানি ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত ত্রিশূলি নদীর তীরে ভাসিয়ে দেয়, যেখানে বাড়িঘর, সেতু ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক সংস্থা আইসিআইএমওডি জানায়, মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে ত্রিশূলি নদীর পানি সাত থেকে নয় মিটার বেড়ে যায় এবং বেশ কয়েকটি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশন ভেসে যায়। নদীর প্রবাহ ভারত সীমান্তের কাছাকাছি প্রায় ১০০ কিলোমিটার নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছায়।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছে প্রায় দেড় হাজার। নেপাল সরকার জানায়, নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ভূমিকম্পের ফলে ভূমিধস এবং বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানায়, ৪.৪ মাত্রার ভূকম্পন আসলে হিমবাহ ধসের ফলেই সৃষ্টি হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হিমবাহটি প্রথমে উত্তর-পশ্চিম দিকে ধসে পড়ে এবং নদীর প্রবাহ ধরে পশ্চিম দিকে চলে যায়। কানাডার ক্যালগেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-প্রকৃতিবিদ ড্যানিয়েল শুগার জানান, ০.২ বর্গ কিলোমিটার আকারের বরফখণ্ড ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে ভেঙে পড়ে।
আইসিআইএমওডি-এর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘটনাস্থলে ‘বরফ ও পাথরের যৌথ ধস’ হয়ে থাকতে পারে, যা ভোটেকোশি নদীর উপনদীতে প্রবাহিত হয়ে হঠাৎ পানি ও পাথরের স্রোত তৈরি করেছে।