নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পরবর্তী ধাক্কা সামলাতে না পারতেই নতুন করে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে দেশটিতে টানা বৃষ্টিপাত চলছে, যা ১২ জেলায় বন্যা সতর্কতা জারির কারণ হয়েছে।
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, পাল্পা আর্চাল এলাকায় বিকেল পর্যন্ত ১৮৭ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য এলাকায়ও ১০০ মিলিমিটারের বেশি বর্ষণ হয়েছে, যা নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ানোর জন্য দায়ী।
নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। গোরখা, লামজুং, কাস্কি, দাং, বাঁকে, বারদিয়া ও কাঞ্চনপুরসহ ১২ জেলা উচ্চ বন্যাঝুঁকিতে রয়েছে। নদীগুলোর পানি যেকোনো সময় বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে তৈরি নিম্নচাপটি ভারতের ছত্তিশগড় হয়ে নেপালের দিকে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, যা আগামী দুই দিন দেশের পশ্চিমাঞ্চলে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে, পৃথ্বী হাইওয়ের ধাদিং অংশে সাতটি স্থানে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
অতিভারী বর্ষণে ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। এর আগে, এক মাস আগে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে দেশটি বিপর্যস্ত হয়েছিল এবং সেই ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা এখনও চলছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, উষ্ণ জলবায়ু ‘ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে’ এবং এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কায় নেপালের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।