সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

নেপালে ভূমিধসের পর আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫

নেপালে ভূমিধসের কারণে আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫ জন। উদ্ধার তৎপরতা চলছে।

নেপালে ভূমিধসের পর আকস্মিক বন্যা, নিখোঁজ ৫

নেপালের মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসের ফলে বুধি গণ্ডকী নদীর পানি বেড়ে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অবকাঠামো ভেসে গেছে এবং দুই নারী ও তিন পুরুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

১০ অক্টোবর, রবিবার, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোরখা জেলার চুমনুব্রি এলাকায় ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এই কারণে নদীর পানি উপচে ভাটির দিকে বন্যা সৃষ্টি হয়েছে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় একজন বিদেশিসহ অন্তত ৪৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে উদ্ধার হওয়া বিদেশির জাতীয়তা প্রকাশ করা হয়নি। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায় প্রায় এক ডজন বাড়ি এবং দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে।

এছাড়া, একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখান থেকে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম পানির স্রোতে ভেসে গেছে। কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি জানান, গোরখা জেলার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার সংযোগকারী একটি মহাসড়ক সেতুও বন্যার স্রোতে ভেসে গেছে।

বন্যার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় নদীর ভাটির দিকে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোরখা জেলার জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্র সতর্ক করে জানান, নদীর তীরবর্তী ভাটির এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছে।

উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং হেলিকপ্টার থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত আগস্টে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার ঘটনায় ১ হাজার ৪৫৭ জন নিহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজ পাঁচজনের সন্ধানে তৎপরতা চালানোর পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নেপালের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন