সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলায় যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি জানান, সৌদি বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলার খবর তাদের কাছে এসেছে এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত বুধবার থেকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় চারজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় কতজন আহত হয়েছেন তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। হামলার কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
হুতিদের হামলার জবাবে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। শুক্রবার, ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোট জানায়, তারা হুতিদের লক্ষ্য করে দেশটিতে ‘বড় পরিসরে অভিযান’ চালিয়েছে এবং ১৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলা বাড়িয়েছে জোটের বাহিনী। একই সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীও গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালাচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব এল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকা থেকে হুতিদের সরিয়ে দেওয়াই এসব অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। এর আশপাশে হুতিদের অবস্থান আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত বছর, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ঘটনায় গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনী আট সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বিমান ও নৌ অভিযান চালিয়েছিল।
রিয়াদের বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলার পর ইয়েমেনে নতুন করে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।