শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

ভারতের নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভের ডাক।

ভারতের নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ ককরোচ জনতা পার্টির

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। একই দাবিতে নয়াদিল্লির জন্তর মন্তরে সমবেত হবেন বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা দিতে কমিশন কারচুপির আশ্রয় নিচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, দেশব্যাপী শুরু হওয়া ভোটার যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় লাখ লাখ বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কমিশনের দাবি, তালিকায় থাকা দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি ও অযোগ্যদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকাকে শতভাগ নির্ভুল করতেই নিয়মিত যাচাইকরণ চলছে।

সম্প্রতি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও কমিশনের ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে অন্তত ১৪ বার উদ্বেগ জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের দুই ডেপুটি। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক এবং সব কার্যক্রম আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে।

সিজেপির আহ্বায়ক সৌরভ দাস ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানান, "আমরা পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু সমাজে পরিবর্তনের একমাত্র হাতিয়ার 'ভোটের অধিকার' যদি ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তবে কিছুই পরিবর্তন হবে না। জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন থামবে না।"

গত বছর শুরু হওয়া দেশব্যাপী ভোটার যাচাই কার্যক্রমকে ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। সমালোচকদের দাবি, এতে ভোট দেওয়ার যোগ্য বহু মানুষ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। অন্যদিকে কমিশনের দাবি, ভুয়া, মৃত ও অযোগ্য ভোটার বাদ দিয়ে তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই কার্যক্রম।

এদিকে, কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলোও আগামী ৬ অক্টোবর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুর দিকে বেকারত্ব ও বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ক্ষোভ থেকে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) একটি প্রতিবাদী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

বিজ্ঞাপন