ভারতের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে, যখন দিল্লির নরেন্দ্র মোদি সরকার ৩৬ দিনের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে বাধ্য হয়। এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), যা মূলত একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য।
গত শনিবার, মোদি সরকারের নতিস্বীকারের ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ গণতন্ত্রের জয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই আন্দোলনের মুখ্য নেতা অভিজিৎ দিপকে, যিনি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা, এবং তার নেতৃত্বে ককরোচ জনতা পার্টি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
অভিজিৎ দিপকে একটি দরিদ্র দলিত পরিবার থেকে উঠে আসেন এবং তিনি ২০২০ সালে আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে কাজ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করলেও দেশে ফিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেন।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা সম্প্রতি এনডিটিভিকে সাক্ষাৎকারে জানান, তারা সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে তাদের উদ্দেশ্য হলো তৃণমূল স্তরে যুবকদের দাবি পূরণে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে এটি ছিল তরুণদের সবচেয়ে বড় স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন। অভিজিৎ দিপকের মতে, এই আন্দোলন ভারতের রাজনৈতিক আলোচনার ধারাকে বদলে দিয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি কি ভবিষ্যতে ভারতের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হয়ে উঠবে, তা সময়ই বলবে।