বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভাগীয় শহর ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। খুলনায় এ বছর মৃত্যু সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়েছে এবং চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজারেরও বেশি।
রাজশাহী, সিলেট ও বগুড়ায় হাসপাতালে শয্যা সংকটে উদ্বেগ বাড়ছে। চট্টগ্রামে চলতি বছর সাড়ে ৪ হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, এর মধ্যে ২১ জন মারা গেছেন। সিটি কর্পোরেশন বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু করেছে এবং ৮টি ওয়ার্ডকে ‘হটস্পট’ ঘোষণা করা হয়েছে।
সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ জনসহ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০। ওসমানী মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসাধীন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামিম আহমেদ জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১৬টি বেড থেকে ৪৫ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘আমরা মহানগরীর ৩০ ওয়ার্ডের বাসাবাড়িতে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটি এক প্রকারের যুদ্ধ।’
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক। চলতি বছরে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা পৌনে ৮ হাজার। খুলনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোঃ শওকত আলী জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য একটি আলাদা ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।
বরিশাল শের-ই-বাংলা হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। বগুড়াতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, শেরপুরে ডেঙ্গুতে এক যুবকের মৃত্যুর পর ২৫ শয্যার বিশেষ ইউনিট চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকরা মনে করেন, স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা জোরদার না হলে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।