বাসাবাড়িতে রান্নার গ্যাস বর্তমানে একটি বড় ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। পাইপলাইনে লিকেজ থেকে ঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে গ্যাস লিকেজের কারণে ৫৩৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা ২০২৫ সালে বেড়ে ৯২০টিতে পৌঁছেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সচেতনতার অভাব ও সরকারি তদারকির অভাবে বারবার এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের অসতর্ক ব্যবহার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লিকেজ, নিম্নমানের পাইপ বা রেগুলেটর এবং সিলিন্ডারের ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটছে।
চলতি বছরের উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি বিস্ফোরণের ঘটনা রয়েছে। নতুন ভাড়াটিয়া আসাদ মিয়া বলেন, ‘ভয়ে–আতঙ্কে বাসা ছেড়ে দিয়েছি। এখানে একটি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে, তাই আমরা চলে যাচ্ছি।’
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালে গ্যাস লিকেজের কারণে ৯২০টি অগ্নিকাণ্ড এবং সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ১২১টি ছিল। আগের বছরের তুলনায় অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা প্রায় ৭১ শতাংশ বেড়েছে, আর বিস্ফোরণের ঘটনা ৪ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহম্মেদ খান বলেন, ‘সিলিন্ডারের মানসম্মত কিট না থাকলে লিকেজ হতে পারে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ।’
বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইসির আরাফাত খান জানান, বদ্ধ ঘরে গ্যাস ৫ শতাংশের বেশি জমলে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের গন্ধও পাওয়া যায় না।
বার্ন ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে চিকিৎসা নেওয়া ৩০ শতাংশ রোগী গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘সাধারণত ৩০ শতাংশ রোগীই গ্যাস থেকে দগ্ধ হয়ে আসেন।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত রিপোর্ট বাস্তবায়নে গাফিলতির কারণে এসব ঘটনা বারবার ঘটছে।