বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা এবং বিমান টিকিট থাকা সত্ত্বেও অবিবাহিত নারী যাত্রীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় হাইকোর্ট কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আদালত এই বিষয়ে রুল জারি করে ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে যে তারা আবেদনকারীদের অভিযোগ ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করে একটি কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিল করবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কামরুল কাদের এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল এবং অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা প্রদান করেন। আদালত জানতে চেয়েছে, কেন আবেদনকারীদের বিদেশযাত্রায় বাধা দেওয়ার কার্যক্রম আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
আদালত আরও নির্দেশনা দিয়েছে যে প্রাপ্তবয়স্ক নারী নাগরিকদের বৈধ বিদেশযাত্রায় অবিবাহিত হওয়া বা অভিভাবক ছাড়া ভ্রমণের কারণে বাধা না দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ নির্দেশনা প্রণয়ন করতে হবে।
রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের আইজিপি, এডিশনাল আইজিপি, পুলিশ সদর দপ্তর এবং শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে। আবেদনকারীরা জানান, তাদের বিদেশযাত্রায় কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা ছিল না, তবুও তাদের বিমানবন্দর থেকে যেতে দেওয়া হয়নি।
আবেদনকারীদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর অবিবাহিত হওয়া বা অভিভাবক সঙ্গে থাকা বিষয়গুলো নাগরিকের বৈধ বিদেশযাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্বতন্ত্র আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
রিটে আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের আচরণ সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সমতা ও লিঙ্গবৈষম্যবিরোধী নিশ্চয়তা, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আইনের আশ্রয় ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং ৩৬ অনুচ্ছেদের চলাফেরার স্বাধীনতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।