জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরকার গত রোববার ডিজেলসহ চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এর পর থেকেই প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম লিটারে ১০ টাকা এবং আটা ও ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা।
ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পরিবহন খরচ বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও ধাপে ধাপে বাড়তে পারে। রাজধানীর বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ‘এমনিতেই সব ধরনের মালামালের দাম বাড়তেছে। এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে বাজার আরও অস্থির হয়ে যাবে।’
একজন ব্যবসায়ী আরও জানান, ‘আগে যে কাস্টমার পাঁচ হাজার টাকার বাজার করত, এখন দেখা যাচ্ছে দুই হাজার টাকার বাজার নিয়ে যাচ্ছে।’ কাঁচাপণ্যের ক্ষেত্রেও একই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। পরিবহন ভাড়া বাড়লে প্রতি ট্রাকে পণ্য আনার খরচ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে।
রাজধানীর একটি বাজারের আড়তদার বলেন, ‘আমার মালামাল আসে ঠাকুরগাঁও থেকে। ওখান থেকে একটা গাড়ি (ট্রাক) আসতে প্রায় ১৭০ লিটার তেল খরচ হয়। লিটারে ২০ টাকা করে বাড়লে এখন ৩ হাজার ৪০০ টাকা বেশি গুনতে হবে।’
এক ট্রাকচালক জানান, ‘ভাড়া এখনো বাড়েনি। তবে বাড়বে।’ সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক ক্রেতা বলেন, ‘তেলের বাড়তি দাম যখন ঘোষণা হয়ে গেছে, তখন থেকে সব জিনিসের দামই বেড়ে চলেছে।’
অগাস্টে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমলেও নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে মূল্যস্ফীতি ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।