মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধের সম্ভাব্য প্রভাব

সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে।

সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধের সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল সরবরাহকারী দেশ সৌদি আরব হঠাৎ করে বাইরের দেশে তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে, সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন ড্রোন হামলার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি থেমে যেতে পারে।

এই পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পাঠানো হত। বর্তমানে সেখানে মজুত তেল মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিনের জন্য রপ্তানি চালানোর মতো রয়েছে। যদি পাইপলাইন দ্রুত চালু না হয়, তাহলে সৌদি আরবের রপ্তানি পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যা বিশ্ববাজারের ৪ শতাংশ তেল সরবরাহের সমান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তেলের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তেল সরবরাহ কমলে দাম বাড়ানোর প্রভাব পড়বে। ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহে চাপ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের সরবরাহ প্রতিদিন ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে।

যদি সৌদি আরবের তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে না পারে, তাহলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়বে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা খাবার, পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। ডিজেলের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সৌদি আরব ইতিমধ্যে উপসাগরীয় বন্দর থেকে তেল পাঠানো বাড়িয়েছে এবং বিকল্প পদ্ধতিতে রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এই পদ্ধতি স্বাভাবিক পাইপলাইনের মতো সহজ নয় এবং খরচও বেশি।

সুতরাং, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি বন্ধ হলে বিশ্ববাজারে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তা শুধুমাত্র সৌদি আরবের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন