গত ৬০ বছর ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি নীরব সমঝোতা বজায় রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের অধিকারী হিসেবে ইসরায়েল কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার করেনি। তবে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সৌদি আরবের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে এই নীতিতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অস্পষ্ট অবস্থান এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখতে সামরিক সংঘাতে জড়ানোর পরও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নীরবতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের একাংশের মতে, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার সময় এসেছে।
ইসরায়েলের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ ষাটের দশকের গোড়ায় শুরু হয়। ১৯৬০ সালে মার্কিন কূটনীতিকদের একটি দল ইসরায়েলের একটি নির্মাণাধীন স্থাপনা দেখে জানতে চায়, সেটি কী। ইসরায়েলের কর্মকর্তারা জানান, এটি একটি ‘টেক্সটাইল কারখানা’, কিন্তু পরে জানা যায়, সেটি ছিল দিমোনা পারমাণবিক স্থাপনা।
মার্কিন গোয়েন্দাদের সন্দেহের কারণে পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলে। দীর্ঘ সময় ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র কৌশলী নীরবতা বজায় রেখেছে, তবে এখন পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকে এগোচ্ছে, যা ইসরায়েলের নীতির টিকিয়ে রাখা কঠিন করে তুলছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। তবে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এসব প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে পারে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারে ওয়াশিংটন।