ইরান সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তা আগের সংঘাতের চেয়ে অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, সম্ভাব্য যুদ্ধের সময়সীমা এবং শর্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারণ করতে পারবেন না।
রোববার (১ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধ আগের সংঘাতের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে।’ এর আগে, ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে, যেখানে নতুন হামলার পরিকল্পনার কথা আলোচনা হয়েছে।
৪ নভেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিন নতুন সংঘাত শুরু হতে পারে বলে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধ কয়েক মাস ধরে চলেছিল এবং ইরান পাল্টা জবাব হিসেবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
আকরামিনিয়ার বক্তব্যের আগের দিন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা খামেনির একটি বার্তায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন হামলা করলে ইরানের পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক কোনো সীমা থাকবে না। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এই বক্তব্যের সমর্থন করেছেন।
এদিকে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) ট্রাম্প ইরানে ‘এক বা দু'টি’ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা জানান। পশ্চিমা গোয়েন্দাদের ধারণা, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কমপ্লেক্স পারমাণবিক উপাদান সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
যুদ্ধের হুমকি ও পাল্টা হুমকির মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনার উদ্দেশ্য কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত রাখা। তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়ায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্সের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন এবং এতে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে তিনি এখনও এর জবাব দেননি।
রেজায়ি আরও জানান, ইরান ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে বিদেশে জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।