ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা পরী মণি আবারও বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেও তার ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে এক বিচারপ্রার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনা বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে।
ভুক্তভোগী সুজন চন্দ্র জানান, তিনি পারিবারিক জমিসংক্রান্ত মামলার কাজে বড় ভাইয়ের সঙ্গে আদালতে গিয়েছিলেন। আদালতের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পরী মণির দেহরক্ষীরা তাদের ধাক্কা দেন, যার ফলে সুজনের মাথায় আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন।
এছাড়া, আদালতকক্ষে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা এবং তাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক ও আইনজীবীরা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানান। আদালতের জামিন শুনানির সময় এই ঘটনার কারণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরী মণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা দেখেননি, তবে যদি এমন কিছু ঘটে থাকে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি আদালতের নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
পরী মণি আদালতে হাজির হন একটি সাদা রঙের গাড়িতে, যেখানে তার সঙ্গে ১১ জন দেহরক্ষী ছিলেন। শুনানির সময় আদালতকক্ষে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে তিনি যান। এর আগে, ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় পরী মণি আত্মসমর্পণ করেন।
পরী মণির বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ৬ জুলাই মামলাটি দায়ের করা হয়, যেখানে তাকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়। একই ঘটনায় পরী মণি নিজেও নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন।
এখন আদালত প্রাঙ্গণে দেহরক্ষীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।